জোসেফ পুলিৎজার ও হলুদ সাংবাদিকতা

শান্তনু চৌধুরী শান্তু
ইতিহাসে পজেটিভ ও নেগেটিভ চরিত্রের কারণেই “জোসেফ পুলিৎজার” এই মানুষটা সম্পর্কে আমার আগ্রহ অনেক । আর আশা করি লিখাটি হয়তো আপনাদের আগ্রহও বাড়াবে । সম্প্রতি হিষ্ট্রি চ্যানেল “জিনিয়াস” শিরোনামে সাংবাদিকার ইতিহাসে জোসেফ পুলিৎজার ও এর উপর ডকুমেন্টারির শেষাংশ দেখি । আর এটাই আমার আগ্রহের গতি সংঞ্চার করে । তাই লিখাটার ক্রেডিট মুলত হিষ্ট্রি চ্যানেলের উপর যায় ।

সচেতন পাঠকরা নিশ্চয় পুলিৎজার প্রাইজের কথা শুনেছেন যা জোসেফ পুলিৎজার এর সম্মানে প্রদত্ত । যাকে সাংবাদিকতার ইতিহাসে ডাকা হয় গ্র্যান্ডফাদার অব দ্য জার্নালিস্ট। তবে সে কথায় পরে আসি । শুরু করি তার শৈশব নিয়ে – যথারীতি গ্রেট মানুষের জীবন ভাবে যেভাবে শুরু হয় তারটাও তেমনই । এক গরীব ইহুদি হাঙ্গেরিয়ান পরিবারে তার জন্ম ১০ এপ্রিল, ১৮৪৭ সালে । আমেরিকার গৃহযুদ্ধ শুরু হবার আগে আগে তার বাবার হঠাৎই বোধদয় হলো এখানে বোধ হয় বেটার একটি জীবন কাটাতে পারবেন । এই লক্ষ্যে ১৮৬৪ সালে অভিবাসিত হয়ে আমেরিকায় চলে আসেন । আর তখনই জোসেফ পুলিৎজার সাংবাদিকতা বা সংবাদের সাথে প্রথম পরিচয় হয়, একজন “পেপার বয়” হিসেবে (রাস্তায় ফেরি করা পেপার বিক্রেতা) যা তাকে পরবর্তী জীবনের মূল্যবান কিছু শিক্ষা দেয় । তার উন্নতির সূচনা হয় আমেরিকার গৃহযুদ্ধে ফার্স্ট নিউইয়র্ক ক্যাভার্লিতে সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করা থেকে । এরই ফলশ্রুতিতে ১৮৬৭ সালে তিনি দ্রুত আমেরিকার নাগরিকত্ব লাভ করেন এবং রাজনীতিতে যোগদান করেন । কেবল তাই নয় ১৮৭২ সালে মাত্র ২৫ বছর বয়সে লিবারেল রিপাবলিকান পার্টির পক্ষ থেকে হোরেস গ্রীলে থেকে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেন

সে যাইহোক, উনি হেরে যান । এই হার তার জীবনকে একটি ভিন্ন মোড় দেয় উনি রাজনীতি থেকে মন সরিয়ে সংসার ও সাংবাদিকতায় মনযোগ দেন । তার সাথে পরিচয় হয় ক্যাথরিন কেট ডেভিস নামের মিসিসিপির এক সম্পদশালী পরিবারের নারীর সাথে । দ্রুতই ক্যাথরিন তাঁকে বিয়ে করেন । ক্যাথরিন ছিলেন তারচেয়ে পাঁচ বছরের বড় ছিলেন । ঋণগ্রস্থ পুলিজিৎ তাকে সম্পদের জন্য বিয়ে করেছিলেন নাকি ভালোবেসে বিয়ে করেছেন এই প্রশ্ন আমি আপতত তুলছি না 😉 । পরবতীতে উনি সাত সন্তানর জনক হয়ে ছিলেন । রাফ্ল পুলিৎজার, দ্বিতীয় জোসেফ, কন্সট্যাস, এডিথ ও লুসিলির কথা জানা যায়।

আরো বিস্তারিত জানতে – https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%9C%E0%A7%8B%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%AB_%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A7%8E%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B0
.
১৮৮৩ সালে পুলিৎজার ৩,৪৬,০০০ মার্কিন ডলারের বিনিময়ে “নিউইয়র্ক ওয়ার্ল্ড” (https://en.wikipedia.org/wiki/New_York_World) ক্রয় করেন । যে পত্রিকাটি বছরে গড়ে চল্লিশ হাজার ডলার লোকসান দিতো । প্রচার সংখ্যা বাড়াতে পুলিৎজার মানবধর্মী কৌতুলহলোদ্দীপক গল্প, রটনা এবং আবেগধর্মী বিষয়াবলী অন্তর্ভূক্ত করেন । যা পত্রিকাটিকে লাভের মুখ দেখায়। এবং সংবাদপত্রের নতুন ধারার প্রবর্তন করেন । অনুসন্ধানী ও সৃজনশীল সাংবাদিকতার প্রতিভার পরিচয় দিয়ে তিনি পুরো সাংবাদিকতার জগতে কিংবদন্তিতে পরিণত হন ।

আর তখনই উদয় হয় পুলিৎজারের জীবনে এক প্রেতাত্মা। নাম “উইলিয়াম হার্স্ট” । যার কারণে পুলিৎজার ও “উইলিয়াম হার্স্ট” এর দ্বন্দ্বের মাধ্যমে সূচিত হয় আরেকটি নতুন ধারা । যাকে আমরা চিনি “হলুদ সাংবাদিকতা” নামে । হলুদ সাংবাদিকতা কি এটার একটা ছোট ব্যখ্যা একটু পরেই দিবো । আপাতত আগের টপিকে ফিরে আসি।

উইলিয়াম হার্স্ট (https://en.wikipedia.org/wiki/William_Randolph_Hearst) ছিলেন এক বিলিয়নার এর বখে যাওয়া পুত্র । অদ্ভুত কারণে তিনি সাংবাদিকতাকে বেছে নেন । কিনে নিলেন পুলিৎজার পরিবারেরই একটি পত্রিকা – “দ্য জার্নাল” যার পরবর্তী নাম “নিউইর্য়ক জার্নাল” (https://en.wikipedia.org/wiki/New_York_Journal-American) । আগে সংবাদপত্র কেবল প্রকাশ করতো বস্তুনিষ্ট ও বোরিং ধাঁচের সংবাদ । অসত্য তথ্য প্রকাশ ছিল চরমভাবে নৈতিকতার বিবর্জিত ঘটনা । পুলিৎজার ছিলেন সেই পথেরই পথিক । কিন্তু উইলিয়াম হার্স্ট কেলেঙ্কারির খবর, চাঞ্চল্যকর খবর, চটকদারি খবর , সত্য মিথ্যা, সত্য থেকে দুরে মিথ্যার কাছাকাছি ধরণের খবর দিয়ে তার সংবাদপত্রের কাটতি বাড়াতে লাগলো আর সাথে সাথে পুলিৎজারের পত্রিকা নিচে যেতে থাকলো ।

উইলিয়াম হার্স্ট মোটা অঙ্কের টাকা-পয়সা দিয়ে পুলিৎজারের নিউইয়র্ক ওয়ার্ল্ডের ভালো সব সাংবাদিককেও টেনে নিলেন নিজের পত্রিকায় । পুলিৎজার তার পেশায় সৎ ছিলেন বিধায় কিছু বলেননি তবে যতক্ষণ না …. হার্স্ট “রিচার্ড ফেন্টো আউটকল্ট” কে ধরে টান দেয় । ওই কার্টুনিস্ট ‘ইয়েলো কিড’ বা ‘হলুদ বালক’(https://en.wikipedia.org/wiki/The_Yellow_Kid) নামে প্রতিদিন নিউইয়র্ক ওয়ার্ল্ডের প্রথম পাতায় একটি কার্টুন আঁকতেন এবং তার মাধ্যমে সামাজিক অসংগতি থেকে শুরু করে এমন অনেক কিছু বলিয়ে নিতেন, যা একদিকে যেমন চাঞ্চল্যকর হতো, অন্যদিকে তেমনি প্রতিপক্ষকে তির্যকভাবে ঘায়েল করত ।

(অফ টপিক – লিংকটা না দিয়ে পারলাম না- http://joydhakweb.com/%E0%A6%9F%E0%A7%8B%E0%A6%9F%E0%A6%BE-%E0%A6%86%E0%A6%B0-%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%9F%E0%A7%8B-%E0%A6%89%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AB-%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A6%9C%E0%A7%8D/ ) এবার পুলিৎজার হার্স্টের মতই নিচে নামলেন । দুজন মিলে শুরু করলেন হলুদ সাংবাদিকতার প্রথম অধ্যয় । পত্রিকার বিক্রি বাড়ানোর জন্য তার যা নয় তাই ছাপাতে লাগলেন । যার ফলশ্রুতিতে আমেরিকাকে অনেক মুল্য দিতে হরো।

১৮৯৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজ হাভানার কাছে ডুবে যায়। হার্স্টের নিউইয়র্ক জার্নাল এজন্য স্পেনের ষড়যন্ত্রকে দায়ী করে সংবাদ ছাপে । ফলে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেস অধিবেশনে স্পেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এভাবে স্পেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করতে যুক্তরাষ্ট্রকে যথেষ্ট প্রভাবিত করে নিউইয়র্ক জার্নালের হলুদ সাংবাদিকতার ফলস্বরূপ এক ‘অনুমান নির্ভর’ সংবাদ !
.
আজ সারা পৃথিবীতে হলুদ সাংবাদিকতার জয়জয়কার । এদের পথিকৃত কিন্তু এই দুই মহান সম্পাদক । যাদের তৈরীকৃত নিয়মগুলোর কারণে বর্তমান সংবাদমাধ্যম অনেক ক্ষেত্রেই তাদের কাছে ঋণী । অথচ তাদেরকে ইতিহাস স্মরণ রেখেছে হলুদ সাংবাদিকতার পথিকৃত হিসেবে । তাদের ভালো খারাপ দুটো পদ্ধতিই পরবর্তী প্রজন্ম লুফে নিবে । নিচে হলুদ সাংবাদিকতার সম্পর্কে ছোট একটা ব্রিফ দিচ্ছে । আশা করি আপনারাও কোন সংবাদ হলুদ সাংবাদিকতার দোষে দুষ্ট বুঝতে পারবেন –
ফ্র্যাঙ্ক লুথার মট হলুদ সাংবাদিকতার পাঁচটি বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন:[৩]
• সাধারণ ঘটনাকে কয়েকটি কলাম জুড়ে বড় আকারের ভয়ানক একটি শিরোনাম করা।
• ছবি আর কাল্পনিক নক্সার অপরিমিত ব্যবহার।
• ভুয়া সাক্ষাৎকার, ভুল ধারণার জন্ম দিতে পারে এমন শিরোনাম, ভুয়া বিজ্ঞানমূলক রচনা আর তথাকথিত বিশেষজ্ঞ কর্তৃক ভুল শিক্ষামূলক রচনার ব্যবহার।
• সম্পূৰ্ণ রঙিন রবিবাসরীয় সাময়িকী প্রকাশ, যার সাথে সাধারণত কমিক্স সংযুক্ত করা হয়।
• স্রোতের বিপরীতে সাঁতরানো পরাজিত নায়কদের প্ৰতি নাটকীয় সহানুভূতি।

এমনটাই হবে বলে জোসেফ পুলিৎজার তার জীবনের শেষ লগ্নে বুঝতে পেরেছিলেন । সে মুহূর্তে তার সামনে উদাহারণ হিসেবে ছিল আলফ্রেড নোবেল । যিনি সারা জীবনের দুর্নাম মুছতে নোবেল প্রাইজ ব্যবস্থা চালু করেন । তিনি তার পথেই হাটলেন । তার জীবনে সঞ্চিত অর্থের ৩ভাগের ২ভাগ তিনি কলম্বিয়া ইউনির্ভাসিটিকে দান করে যান সাংবাদিকতা পেশাকে উন্নতি করার জন্য । ১৯১১ সালে তাঁর মৃত্যুর পর কলম্বিয়া ইউনির্ভাসিটি তাঁর অর্থের কিছু অংশ দিয়ে ১৯১২সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা স্কুল গঠন করে এবং বাকি অর্থের মাধ্যমে ১৯১৭সালের ৪ঠা জুন প্রথম পুলিৎজার পুরস্কারের ঘোষণা দেয়া হয় । যা তাকে নোবেলের মতই ইতিহাসে অমর করে তুলেছে । এবং এই পুরস্কারটিকে সাংবাদিকতার নোবেলও বলা হয় (https://en.wikipedia.org/wiki/Pulitzer_Prize) । বর্তমানে প্রতি বছরের এপ্রিল মাসে ২১ টি বিভাগে পুরস্কারটি প্রদান করা হয়। একটি স্বাধীন বোর্ড বিজয়ী নির্বাচন করে থাকেন ।

২০১৫ সালের প্রাইজের লিস্ট- http://www.pulitzer.org/prize-winners-by-year/2015

লিখাটা এখানেই শেষ বলা চলে তবে ডেজার্ট হিসেবে পুলিৎজার পুরস্কার প্রাপ্ত কিছু ছবি ও তার কাহিনী নিচে দিলাম ।
২১ টি ক্যাটাগরির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ‘ফিচার ফটোগ্রাফী’ এবং ‘ব্রেকিং নিউজ ফটোগ্রাফী’ পুরষ্কার দুটি। তার মাঝে কিছু দেওয়া হলো ।

১। American Soldiers Dragging Viet Cong
Photographer: Kyoichi Sawada,
Date: 19 August 1966

উপরের ছবিটি তুলেছেন জাপানি ফটোগ্রাফার Kyōichi Sawada। ১৯৬৬ সালের ৯ই আগস্ট দক্ষিণ ভিয়েতনামের Battle of Long Tan যুদ্ধ শেষ হবার পর তোলা হয়েছে এই ছবিটি। ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে, একজন ভিয়েতনামের একজন বিদ্রোহীকে হত্যার পর আমেরিকান সৈন্যরা ট্যাঙ্কের পিছনে দড়ি দিয়ে বেঁধে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। ছবিটাতে যুদ্ধের বর্বরতা খুব ভালো ফুটে উঠেছে। তবে এই ছবি দেখে আপাতদৃষ্টিতে আমেরিকান সৈন্যদেরকে দোষারপ করাটা ঠিক হবে না। কারণ, এই ছবি তোলার আগের রাতে ভিয়েত কং এর সদস্যরা অস্ট্রেলিয়ান সৈন্যদের ক্যাম্পে অতর্কিত হামলা চালিয়ে অনেক সৈন্যকে হত্যা করে।
২। This Pulitzer Prize-winning photograph by AP photographer Nick Ut shows terrified children, including Kim Phuc, center, fleeing down a highway June 8, 1972,

৩। The desegregation of buses in Boston, Massachusetts, was ordered in 1965—and by 1974, protests against this reform had become a severe and widespread ..

৪। Lone Jewish Woman
Photographer: Oded Balilty,
Date: 1 February 2006

এই ছবিটি তোলা হয়েছে ইসরাইলের ‘এমোনা’তে, যেটি ইসরাইলের ওয়েষ্ট ব্যাঙ্কে অবস্থিত। ইসরাইল সরকার ‘এমনা’ কে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের শিবির বলে আখ্যায়িত করেছিল। কিন্তু সেই এলাকারসহ সমগ্র ইসরাইলের জনতারা এমনটি মনে করেনি। তাই ১০,০০০ পুলিসকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল ‘এমোনা’র সকল অধিবাসীদের উচ্ছেদ করার জন্য। হাজার হাজার পুলিশের সামনে যদিও তারা ছিল অসহায়, কিন্তু নিজের প্রিয় আবাসস্থলটকে কি চোখের সামনে ভেঙ্গে ফেলতে দেখা কার পক্ষে সম্ভব!! ছবিটিতে একজন ইহুদী মহিলাকে দেখা যাচ্ছে নিজের দেহের সর্বোচ্চ শক্তিটুকু দিয়ে হাজার হাজার সৈন্যকে ঠেকাতে। তা না হলে যে নিজের সাজানো গোছানো সংসারটিকে ধংসস্থুপে পরিণত করবে তারা… একপর্যায়ে হেরে যায় নির্মম বাস্তবতার কাছে… তখন তাদেরকে ‘অভিশাপ’ দেওয়া ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না মহিলাটির..।।

৫। Every photo has a story, and this particular photo has one of the most interesting stories of them all — a story of anonymous fame, and famous anonymity

৬।

৭।

৯।

৯।

১০। Saigon Execution
Photographer: Eddie Adams,
Date: 1968

এই ছবিটি হচ্ছে ইতিহাসের কুখ্যাত কিছু তোলা ছবির মধ্যে একটি। ছবিটি তোলার পরপরই গ্যানম্যানের গুলি উড়িয়ে দিয়েছিল ছবিতে থাকা ব্যাক্তিটির। লুটে পরেছিল মাটিতে… কি, খারাপ লাগছে খুব ? প্রচন্ড রাগে কাঁপছেন গ্যানম্যানের উপর ? লাগাটাই স্বাভাবিক, আমারও লেগেছিল প্রথমবার দেখার পর। কিন্তু ছবিটির পিছনের গল্পটি জানার পর হয়তোবা আপনার আর আমার মতো খারাপ লাগবে না।
ছবিতে বন্ধুক হাতে দাঁড়ানো গ্যানম্যান হচ্ছে ‘Nguyễn Ngọc Loan’, দক্ষিণ ভিয়েতনামের মেজর জেনারেল এবং ন্যাশনাল চিফ পুলিস। আর প্রিজনার এর নাম হচ্ছে ‘Nguyễn Văn Lém’, একজন ভিয়েত কং এর লোকাল অফিসার যে কিনা ‘সেইগন’ এলাকার সকল পুলিশ অফিসারকে নির্মমভাবে মেরে ফেলার অন্যতম হোতা। সে এক ডজনের ও বেশী পুলিশ এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের কে হত্যা করেছিল। এডি এড্যামসের তোলা এই ছবি প্রেসে আসার পর তা সমালোচনার সৃষ্টি করে। কারণ তার তোলা ছবির মাধ্যমে গ্যানম্যানের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছিল ‘ভিয়েত কং’ এর সদস্যরা। যার দরুন গ্যানম্যান ও তার পরিবার এর জীবণ হুমকির মুখে পরেছিল। পরে অবশ্য ফটোগ্রাফার এডি এডামস দুঃখ প্রকাশ করে।
১১।

১২।

১৪। The Kiss of Life
Photographer: Rocco Morabito,
Date: 1967

এই ছবিতে যেই দুইজনকে দেখতে পাচ্ছেন তারা হচ্ছে লাইনম্যান। একজন হচ্ছে র্যান্ডাল চ্যাম্পিয়ন এবং আরেকজন হচ্ছে জে.ডি. থ্যম্পসন (বাম থেকে)। ১৯৬৭ সালের কোনো এক সকালে যখন তারা দৈনন্দিন রুটিনের মতোই লাইন চেক করছিল, র্যান্ডাল আটকা পরে যায় উচ্চ ভোল্টেজের একটি লাইনে। সাথে সাথেই র্যান্ডালের শরীরের মধ্য দিয়ে ৪০০০ ভোল্ট চলে যায়, আর বন্ধ হয়ে যায় র্যান্ডালের হৃদপিণ্ড… আপনারা হয়তো জানেন কিনা জানি না, তবুও বলছি, ইলেক্ট্রিক চেয়ারে ২০০০ বোল্ট ব্যবহার করা হয়। তাই ৪০০০ বোল্ট শরীর দিয়ে প্রভাবিত হওয়ার পর পরই র্যান্ডাল লুটিয়ে পরে নিচের দিকে। কিন্তু সেইফটি প্রোটেকশন এর কারণে ঝুলতে থাকে তারের সাথে। ‘থ্যম্পসন’ তখন ছিল র্যান্ডালের একটু নিচেই। সে রান্ডালের কাছাকাছি এসে হার্টবিট পুনরায় সচল করার জন্য CPR দিতে থাকে। যদিও ঝুলতে থাকা অবস্থায় কাজটি ছিল অসম্ভবের কাছাকাছি, তারপরও থ্যম্পসন হাল ছেড়ে দেয়নি। পেরামেডিক্স আসার আগ মূহূর্তে থ্যম্পসন সক্ষম হয় র্যান্ডালের লাঞ্চ সচল করতে..।।

১৫।

১৬।

১৭। Rafael Hernandez, director of Angeles del Desierto stands over the body of an undocumented immigran

১৮। Rafael Hernandez, director of Angeles del Desierto stands over the body of an undocumented immigran

১৯। V- Day in Time Square, Pulitzer Prize winning photo and one of the most

Vulture Stalking a Child
Photographer: Kevin Carter
Date: 1993

কেভিন কার্টের কে চিনেন ?
কেভিন কার্টার এর একটি তোলা দূর্দান্ত ছবি আমরা সবাই কম বেশী দেখেছি। জ্বি হ্যাঁ, আমি নিচের ছবিটির কথাই বলছি। ছবিতে দেখছি দূর্ভিক্ষে জর্জরিত একটি শিশু মাথা নুয়ে বসে আছে, আর তার পাশেই বসে আছে একটি শকুন।
এবার আসি ছবিটির পিছনের গল্পে। ১৯৯৩ সালের মার্চে কেভিন তার সাংবাদিকতা পেশার জন্য গিয়েছিল সুদানে। সেখানে সে দেখতে পায় এই শিশুটি ‘ফিডিং ক্যাম্পের’ দিকে ঠুকে ঠুকে যাচ্ছে। যার পাশেই কিনা বসে আছে একটি শকূন, অপেক্ষা করছে তার মৃত্যুর.. এই দৃশ্যটি দেখে ছবি তুলে নেয় কেভিন, এবং শিশুটিকে সাহায্য না করেই চলে আসে। অতঃপর New York Times এর কাছে বিক্রি করে দেয় সে ছবিটি, যা ১৯৯৩ সালের ২৬ মার্চ প্রকাশিত হয়। এবং তার পরই শুরু হয় বিশ্বজুড়ে তোলপাড়। হাজার হাজার মানুষ New York Times এ ফোন করে জানতে চায় শিশুটির পরিণতির কথা, জানতে চায় শিশুটি কি আদো পৌছাতে পেরেছিল কিনা ক্যাম্পে, নাকি… ১৯৯৪ সালে কেভিন জিতে নেয় পুলিৎজার পুরস্কার, কিন্তু সে বছরেরই ২৭ জুলাই সে আত্মহত্যা করে। সেদিন সে Braamfonte এ নিজের শৈশব যেখানে কাটিয়েছিল সেখানে যেয়ে নিজের পিক আপ ট্রাকের নিষ্কাশন পাইপ এর লাইন নিজের গাড়ির ভিতরে ঢুকিয়ে আত্মহত্যা করে কার্বণ মনোক্সাইড বিষক্রিয়ার মাধ্যমে। রেখে যায় তার সুইসাইড নোট…
“I am depressed … without phone … money for rent … money for child support … money for debts … money!!! … I am haunted by the vivid memories of killings and corpses and anger and pain … of starving or wounded children, of trigger-happy madmen, often police, of killer executioners … I have gone to join Ken if I am that lucky.”………
(পরবর্তীতে জানা যায় শিশুটি ক্যাম্প পর্যন্ত পৌছে ছিলো ও আরো কিছুদিন বেঁচে ছিলো)


আপাতত সমাপ্ত তবে এই পোষ্টটি কিছুদিন পর পর এডিট হবে নতুন ছবি ও তার পিছনের গল্প নিয়ে । তাই চাইলে সেইভ করে নিতে পারেন । আর হ্যাঁ লিংক দিচ্ছি এখানে পুলিৎজার প্রাইজ পাওয়া সব ছবি পাওয়া যাবে- (http://www.slideshare.net/guimera/the-pulitzer-prize-winners-photography-19422013-1, http://coolphotographypics.blogspot.com/2011/08/pulitzer-prize-winning-photographs-from.html)
তথ্য সুত্র নেট দুনিয়া এবং বিশেষ কৃতজ্ঞতায় ব্লগার ত্রিভকাল